রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ-এ (কেআইবি) ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠন, বিগত সরকারের দুর্নীতি ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন।
বলেন, জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি সর্বস্তরের জনগণের আন্দোলন। বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো মাঠে ছিল এবং জনগণকে একা ফেলে চলে যায়নি। এখন আর তর্ক-বিতর্ক বা আন্দোলনের সময় নয়। এখন সময় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় দেশ পুনর্গঠন ও এগিয়ে নেওয়ার। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রশাসন পাওয়া গেছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশ থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে এবং ব্যাংক, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জ্বালানি খাত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার এতদিনেও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস না থাকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি জানান—আগামী ৩-৬ মাসের মধ্যে বেশিরভাগ জেলায় (মেডিকেল কলেজে ৫০ বেড ও জেনারেল হাসপাতালে ১০ বেড) ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস চালু হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সংকটের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতকে পকেট ভারী করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বিধ্বস্ত খাত পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মালয়েশিয়াও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে এই দফাকে সমর্থন দিয়ে জনগণ রায় দিয়েছে। তাই এটি এখন আর শুধু বিএনপির নয়, বরং জনগণের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠন।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রমুখ।