মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত অত্যন্ত কার্যকর জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র এখন থেকে ভারতে তৈরি করবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপ। সোমবার (৩১ আগস্ট) টাটা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের (টিএএসএল) সঙ্গে সমরাস্ত্র উৎপাদনকারী দুই বিখ্যাত মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিন ও রাইথিয়নের অংশীদারী জোট ‘জ্যাভেলিন জয়েন্ট ভেঞ্চারের’ (জেজেভি) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কয়েক দিন আগেই ভারতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০০টি জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৫টি লঞ্চার ক্রয়ের জন্য একটি লেটার অব অফার অ্যান্ড এক্সেপ্টেন্স (এলওএ) চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরাসরি সরকারি চুক্তির সঙ্গে টাটা-জেজেভির এই উৎপাদন বিষয়ক চুক্তির কোনো সংযোগ নেই।

নতুন এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, টিএএসএল এবং জেজেভি যৌথভাবে ভারতে জ্যাভলিনের ‘অল আপ রাউন্ড’ (এইউআর—সম্পূর্ণ সংযোজিত ক্ষেপণাস্ত্র) ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি ভারতীয় অন্যান্য কোম্পানির সক্ষমতা পর্যালোচনা করে দেশেই যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সুযোগও অন্বেষণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। একাধিক ভারতীয় কোম্পানির কার্যদক্ষতা যাচাই করে লকহিড মার্টিন ও রাইথিয়ন তাদের প্রধান অংশীদার হিসেবে টিএএসএলকে নির্বাচন করেছে।

জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব জ্যাভলিন হলো কাঁধে বহনযোগ্য একটি ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট নীতিতে পরিচালিত ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, যা ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও সুরক্ষিত ঘাঁটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নিক্ষেপের পর এটিকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত কোনো গাইড বা নির্দেশনার প্রয়োজন পড়ে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনী ব্যাপকমাত্রায় এই মারণাস্ত্র ব্যবহার করে আসায় বিশ্বজুড়ে এটি ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে।

(সূত্র: ফার্স্টপোস্ট)