সরকার একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিজয়নগরস্থ বিজয়-৭১ চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন। সমাবেশে গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল আইন করা হয়েছে। গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশের হাতেই ন্যস্ত থাকে, তবে তা নিছক প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। তিনি গুমের তদন্তে বদলি ও পদোন্নতির চাপমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবি জানান এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সরকারের অন্যান্য প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি এবং জ্বালানির দাম না বাড়ানোর কথা বলে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে করের বোঝা চাপানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন আইনে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে এবং এই আইন মুসলিম আইন বা শরীয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা যাচাই করে ওলামায়ে কেরামের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন ও সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল—এই তিনটি আইন পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন ফিরিয়ে আনার অর্থ হলো প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগের আইনকে পুনর্বহাল করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদ ৩১ দফার সঙ্গে বেঈমানি করেছে এবং লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আলতাফ হোসেন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।