জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার অন্যতম মূলহোতা মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর পাকিস্তানি সিদ্ধান্তকে ‘ভাঁওতাবাজি’ ও ‘লোক দেখানো’ বলে মন্তব্য করেছে ভারত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, লোক দেখানো ঘোষণা না দিয়ে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
নয়াদিল্লিতে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানিদের এমন কৌশল ও লোক দেখানো কাজ নতুন নয়। সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া কোনো রাষ্ট্রের এ ধরনের ভাঁওতাবাজি ঘোষণার কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের এখন বাস্তবমুখী আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এর আগে সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে তথ্যের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ ২০ লাখ রুপি বাড়িয়ে মোট ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি নির্ধারণ করে। একইসঙ্গে তাকে দেশের সন্ত্রাসী তালিকার নতুন ‘রেড বুকে’ পলাতক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠককে সামনে রেখে ‘গ্রে লিস্টে’ নাম ওঠা ঠেকাতেই পাকিস্তান সরকারের এই তৎপরতা।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে যে মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি কাবুলের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ডকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
মাসুদ আজহার ভারতে ২০০১ সালের সংসদ ভবনে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণসহ একাধিক মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার প্রধান অভিযুক্ত।
এদিকে এফআইএ-এর প্রকাশিত সর্বশেষ ‘রেড বুকে’ ১,৮০৪ জন কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। এই তালিকায় ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় জড়িত এবং অর্থায়নকারী একাধিক ব্যক্তির নাম ও ছবি অন্তর্ভুক্ত হলেও, লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সাথে সম্পৃক্ত কিছু সন্দেহভাজনের ছবি ও বিস্তারিত বিবরণ নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
(তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট)