২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির মনোনীত এই মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, ব্যাংক ঋণনির্ভর এ বাজেট দেশের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারকে এ ধরনের বাজেটের অশুভ চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমানের পক্ষে ভ্যানগাড়ি ও ব্যবসার জন্য নগদ অর্থ উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন:

“সরকার বিশাল আকারের বাজেট ঘোষণা করলেও এর উল্লেখযোগ্য একটি বড় অংশ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। সরকার নিজেই যদি ব্যাংক খাতের অধিকাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি বাধাগ্রস্ত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণ নতুন সরকারের কাছ থেকে একটি গণমুখী বাজেট প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত আবারও চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াত নেতা উল্লেখ করেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে জামায়াতের এ ধরনের কল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন স্পষ্ট করেন যে, সরকারকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে জামায়াত সব সময় গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য ডা. মাঈনুদ্দীন এবং জিএম হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।