দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘বঙ্গবন্ধু বা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী আর্মি স্টেডিয়ামে পৌঁছান। স্টেডিয়ামে পৌঁছে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে পরম উৎসাহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং খেলার মাঠ ও গ্যালারি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী রোমাঞ্চকর ম্যাচটি সম্পন্ন হয়। বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের তীব্র লড়াই শেষে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অন্যদিকে, বালিকা বিভাগের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্যালারিতে বসে খুদে বালিকাদের এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি দেখছেন প্রধানমন্ত্রী।

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে কঠোর বাছাই শেষে মাত্র চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রীসহ মোট ২২ লাখের অধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে এবং আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।