আওয়ামী লীগের মতো খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে দেশের সাধারণ জনগণ বিএনপিকেও দেশছাড়া করবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বিগত ২০ বছর ধরে রাজপথে একসাথে লড়াই করলেও আজ ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই স্বৈরাচারী ও খুনের রাস্তা অবলম্বন করেছে। ক্ষমতার মোহে যারা দেশে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তারা এখনই সতর্ক না হলে ৫ বছরও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।”
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। রোববার (২১ জুন ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন:
“গাইবান্ধায় আমাদের ভাই সাইফুল্লাহর ওপর যে বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। বিএনপি-যুবদলের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে সাইফুল্লাহর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করার জন্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে সদা প্রস্তুত।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বিএনপি এবং প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ডাইনি হাসিনার গুম-খুনের রাজনীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপি আজ একটি নতুন ডাকাত দলে পরিণত হয়েছে।”
দপ্তর সম্পাদক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন: “খুনি হাসিনা বলতেন এ দেশ তার বাপের দেশ। আর এখন নব্য ফ্যাসিস্ট দল বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে দেশের জনগণ যেন বাংলাদেশ তাদের কাছে ইজারা দিয়েছে।”
“দেশের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক-বীমা, মাঠ-ঘাটসহ এমন কোনো জায়গা বাকি নেই, যেখানে তারা দখলদারি এবং ডাকাতি করেনি। তাদের এই চরম অত্যাচার ও জুলুমের কারণে দেশের মানুষ আজ তীব্রভাবে ত্যক্ত-বিরক্ত।”
বিএনপি-ছাত্রদলের অতীত ও বর্তমান সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও ছাত্রদল মিলে আমাদের ৩২ জন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আপনারা যে লাশের রাজনীতি শুরু করেছেন, সাবধান হয়ে যান। এই রক্তের খেলা দেশের সাধারণ জনগণ এমনভাবে শেষ করবে, যা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।”
বক্তব্যের শেষাংশে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, “প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে সাবধান হতে হবে। আপনারা বিএনপির চশমা খুলে ফেলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করুন।”
উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন— ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান, জসকু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন সদস্যসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ নিহত সাইফুল্লাহর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।