ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউতে একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের আলীগঞ্জ এলাকায় একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক ভবনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভবনটিতে কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকান (পেট শপ) এবং বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল। বিকেল বেলা কোচিং ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ভবনটিতে আগুন লেগে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের ভেতরে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আটকা পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, আগুন লাগার পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভবন থেকে বের হওয়ার পথ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থীকে ভবনের ওপর তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। আগুন থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টার সময় এক ব্যক্তিকে নিচে পড়ে যেতেও দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর বিধ্বংসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ধোঁয়ার কারণে ভেতরে অনেকেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।
এদিকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
লখনউয়ের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটির সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।