যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুসহ জাহাজটি জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এবং জাহাজের অতিরিক্ত চিফ অফিসার প্রণয় সাহা জাহাজটির নিরাপদ প্রণালি পার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জাহাজটি হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: কাতারের বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ফলে জাহাজটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটিকে কুয়েত না পাঠিয়ে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। পরবর্তীতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি রওনা দিলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ অতিক্রমের সময় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। বাধ্য হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়।
সর্বশেষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ সরকারের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ।
২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮,৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার এই বাল্ক ক্যারিয়ারটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। ফুজাইরা বন্দরে বাংকারিং ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে জাহাজটি তার পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হবে।