রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালুর পর সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলা বা লেন পরিবর্তনের মতো আইন ভঙ্গের ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ও ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে ঢাকার সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

আগামী মাসের ১৫ তারিখের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত বৈঠকের পর এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। এরপর মাঠ পর্যায়ে কঠোর অভিযানে নামবে ট্রাফিক বিভাগ।

এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সাধারণ যানবাহনের আইন ভঙ্গ সনাক্ত করে ই-প্রসিকিউশন দেওয়া সম্ভব হলেও অটোরিকশার ক্ষেত্রে তা করা যাচ্ছে না। কারণ এসব যানবাহনের অধিকাংশেরই কোনো বৈধ নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট বা চালকের লাইসেন্স নেই।

তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, অটোরিকশার উল্টো পথে চলা ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা কমেনি। উপরন্তু, এগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রাজধানীতে লাখ লাখ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের পর্যাপ্ত জনবল নেই। প্রতিদিন আলাদা অভিযান চালাতে গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ ব্যাহত হয়।

"সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে আগামী মাসের ১৫ তারিখের দিকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত বৈঠক হতে পারে। সেখানে সিদ্ধান্ত হলে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" — মো. আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক), ডিএমপি

১. প্রথম ধাপ: সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রথম ধাপে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হবে। ২. দ্বিতীয় ধাপ: পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে অটোরিকশার চলাচল কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। ৩. সমন্বিত উদ্যোগ: অটোরিকশার মালিক ও গ্যারেজ মালিকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকায় শুধু পুলিশি অভিযান নয়, সরকারি ও রাজনৈতিক পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক সরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।