যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এবার ১০ হাজার টনের বিশাল ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছর প্রতি বছর ২টি করে ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে উত্তর কোরিয়া। দেশের নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার মহাপরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি, রয়টার্স ও এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার বন্দর-শহর নাম্পোতে ‘চো হিয়ন’ নামের একটি ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নৌবাহিনীতে কমিশন্ড (অন্তর্ভুক্তি) করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কিম জং উন এই নতুন সামরিক প্রকল্পের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং উন বলেন, “আজ আমরা ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ চো হিয়নকে কমিশন্ড করলাম, শিগগিরই ‘ক্যাং কন’ নামের আরেকটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে কমিশন করা হবে। সেটিও ৫ হাজার টনের এবং সামরিক অপারেশনে ব্যবহারের উপযোগী।”
ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরে কিম জং উন আরও বলেন, এখন থেকে প্রতি বছর ২টি করে ৫ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে। এই বিশেষ নির্মাণ প্রকল্প আগামী ৫ বছর পর্যন্ত চালু থাকবে। এই প্রকল্পের আওতাতেই একটি ১০ হাজার টনের শক্তিশালী ক্রুজার যুদ্ধজাহাজও তৈরি করা হবে। উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে খুব দ্রুত পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) জানিয়েছে, ‘চো হিয়ন’ ডেস্ট্রয়ারটিকে মূল নৌবহরে যুক্ত করার আগে টানা ১৪ মাস অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করেছে দেশের নৌবাহিনী। জাহাজটিতে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক অস্ত্রগুলো সংযোজন করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসেই এই জাহাজটি থেকে সফলভাবে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
ভবিষ্যতে দেশের নৌ প্রতিরক্ষা খাতকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করে মঙ্গলবারের বক্তব্যে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ানো ব্যাতীত আর কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”