অযোধ্যায় রামমন্দিরের পবিত্রতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু রাম ভক্ত। মন্দিরের অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই মন্দিরে দান করা থেকে বিরত থাকার কথা বলছেন।
সম্প্রতি রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান, বহুমূল্য গয়না ও সোনা-রুপার সামগ্রী তছরুপের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় মন্দিরের দানপত্র গণনার কাজে নিয়োজিত আটজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, দানপাত্র গণনার সময় তারা নিয়মিতভাবে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করছিল। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে।
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের দাবি, অনুদান গণনার প্রক্রিয়াটি স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কর্মীসহ ট্রাস্টের সদস্যদের উপস্থিতিতে কঠোর নজরদারিতে সম্পন্ন হয় এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি। তবে, এই ঘটনার জের ধরে অযোধ্যার বার অ্যাসোসিয়েশন অভিযুক্তদের পক্ষে মামলা না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং চম্পত রাইকে এলাকা ত্যাগের হুমকি দিয়েছে।
এই কেলেঙ্কারি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দিয়েছেন যে, জনগণের ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মামলাটি বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় তদন্তাধীন। এর আগে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মী মহিপাল সিং এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত এসআইটি তদন্ত করছে যে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। রাম মন্দির কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ভক্তদের বিশ্বাসের এই সংকট মন্দিরের স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।