ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য পরিচয়ে হুমায়ুন কবির ঢালীর বিরুদ্ধে মক্কেলদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মিথ্যা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী আবুল হাসনাত রাসেলের অভিযোগ অনুযায়ী, আইনি মামলার কাজ করার নাম করে হুমায়ুন কবির ঢালী তার কাছ থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এরপর কাজ শেষ করার অজুহাতে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে হুমায়ুন কবির ঢালীর ধানমন্ডি শাখার সিটি ব্যাংক হিসাবে (হিসাব নং: ২৩০২৪৬০৯১১০০১) সেই টাকা জমা দেন।
টাকা পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তালবাহানা। ভুক্তভোগী জানান, “তিনি ফোন ধরতেন না, খারাপ ব্যবহার করতেন এবং নিয়মিত চেম্বারে আসা বন্ধ করে দেন। উল্টো আরও টাকার দাবিতে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিতে থাকেন।”
ভুক্তভোগী ঢাকা আইনজীবী সমিতির কাছে অভিযোগ করলে হুমায়ুন কবির ঢালী চরম ক্ষিপ্ত হন। গত ২৮ জুন দুপুরে বিষয়টি সুরাহার জন্য ভুক্তভোগী তার কার্যালয়ে গেলে ঢালী তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত ‘দৈনিক নবচেতনা’র সাংবাদিক মাসুদ রানা ও তার নারী সহকর্মী রাবেয়া হামলার শিকার হন। তাদেরকে মারধর ও নারী সাংবাদিককে শ্লীলতাহানি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর ভুক্তভোগীকে সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েলের রুমে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য জোরপূর্বক মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ‘মফস্সল সাংবাদিক ফোরাম’ ও ‘সাংবাদিক নির্যাতন কমিটি’র সভাপতি আবু জাফর বলেন, “এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ঢালীর এমন কর্মকাণ্ডে ঢাকা আইনজীবী সমিতির পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।