উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট একটি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ভারী এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপরের তিন দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশের উজানে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানির স্তর কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিন তা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ায় পানি সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে, যার ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
গঙ্গা নদীর পানি বাড়লেও পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন উভয় নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিন কমতে পারে। এছাড়া সিলেট বিভাগের মনু, খোয়াই এবং চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, ফেনী, মাতামুহুরী, সাঙ্গুসহ হালদা নদীর পানির স্তর আগামী কয়েক দিনে বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।