বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স ও মরক্কো। কাতারের সেই ঐতিহাসিক সেমিফাইনালে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তৈরি করেছিল মরক্কো। এবার আরও শক্তিশালী রূপ নিয়ে তারা মুখোমুখি হচ্ছে গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্সের। কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহারণ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবারও শিরোপা জেতার অন্যতম দাবিদার। উত্তর আমেরিকার মাটিতে চলমান এই টুর্নামেন্টে ফরাসিদের পারফরম্যান্স দুরন্ত। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জয় তুলে নিয়ে তারা ১৪ গোল দিয়েছে, বিপরীতে খেয়েছে মাত্র দুটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন একাই একশ; টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত সাতটি গোল করে অনন্য উচ্চতায় আছেন তিনি। দেম্বেলে, ওলিসে ও বারকোলাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে তারা এখন দুর্দান্ত গতিতে ছুটছে।

কেবল চ্যালেঞ্জার নয়, মরক্কো এখন শিরোপা প্রত্যাশী। ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (AFCON) চ্যাম্পিয়ন মরক্কো বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে। কাতারে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়া দলটি এবার টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে। মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, “আমরা এখন কেবল বিস্ময় নই, আমাদের এই ধারাবাহিকতা অনেক বছর ধরে বজায় থাকবে এটাই আশা করছি।” তবে দলটির জন্য দুঃসংবাদ হলো, ইনজুরির কারণে তারকা ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারিকে এই ম্যাচে পাচ্ছে না তারা।

কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া মরক্কো এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম মনে করেন, ফুটবল মাঠে প্রতিশোধের চেয়ে বর্তমান পারফরম্যান্সই বড়। তিনি বলেন, “ফুটবলে ম্যাচের দিন যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। তবে মরক্কো দুর্দান্ত ফর্মে আছে, তাই তাদের সমীহ করতেই হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও মরক্কো। এর মধ্যে ফরাসিরা জিতেছে চারবার এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের পর এই প্রথম তারা আবার কোনো বড় টুর্নামেন্টে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

ফুটবল বিশ্ব এখন প্রহর গুনছে—ফ্রান্স কি তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখবে, নাকি নতুন ইতিহাস লিখে প্রতিশোধের আনন্দে মাতবে ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা?