টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতা নিরসনে রেললাইন ৫ ফুট উঁচু করার ঐতিহাসিক উদ্যোগসহ দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০টি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি এড়াতে সরকার ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাহ্দী আমিন জানান, এরই মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো, প্রধানমন্ত্রী নিজে দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫ জেলার দুর্গত মানুষের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুখাদ্যসহ তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি ও জনগণের মনোবল বাড়াতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন। সরকারি প্রশাসন, মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণে নিয়োজিত করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসের কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও সমবেদনা জানাতে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করছেন। চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ আবাসন তৈরি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুতই এই দুর্যোগ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তিনি আর্তমানবতার সেবায় সরকারের এই দায়বদ্ধতা ও মানবিক উদ্যোগের বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।