রাজধানীর উত্তরায় অসমাপ্ত সড়ক ও সংযোগপথের কারণে উল্টো পথে সিএনজি চালিয়ে ২ হাজার টাকা জরিমানার মুখে পড়েছেন এক চালক। ঘটনাটি শুধু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তির প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই বিকেলে আজমপুর ইনকামিং (ট্যাঙ্গো-৬) এলাকায় ঢাকা মেট্রো-ডি-১১-১৩৯১ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশাকে উল্টো পথে চলতে দেখে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট থামান। পরে রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট, ২০১৮-এর ৯২(১)(d) ধারায় চালক মো. বাদশা মিয়াহকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঘটনাস্থলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে চালক দাবি করেন, হাউস বিল্ডিং ক্রসিংয়ের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী চেরাগ আলী সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় স্বাভাবিক পথে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি ব্যয় এড়াতেই তিনি কিছু দূর উল্টো পথে গিয়ে ইউ-টার্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার সময় চালক তার মোবাইল ফোনে একজন পুলিশ সদস্য পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সঙ্গে ট্রাফিক সার্জেন্টের কথা বলানোর চেষ্টা করেন। পরে তিনি দাবি করেন, রাজধানীতে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য তিনি নিয়মিত মাসোহারা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনে সেই পরিচয় ব্যবহার করে ঝামেলা এড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আইন ভঙ্গের কারণে চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সঠিক হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে অনেক চালক বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক ও সেতু নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত শেষ করাও জরুরি। অন্যথায় অব্যবস্থাপনার দায় শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।