টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে কক্সবাজার জেলাজুড়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে শিশুসহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সমন্বয় কার্যক্রমের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, পানিবন্দি দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইস গেটগুলো সচল রাখার কাজ চলছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, গত ৬ দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি সেবার তীব্র সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।