মধুপুর শহরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত রথ আর হাজারো ভক্তের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মধুপুরের রাজপথ।
আজ সকালে মধুপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘আনারস চত্বর’ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টা ও কীর্তনের সুরে শহর যেন এক পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়। রথটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় প্রদক্ষিণ করে। এসময় পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ রথযাত্রাকে স্বাগত জানান। দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে শোভাযাত্রাটি নতুন বাজার এলাকায় এসে শেষ হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার। তিনি রথযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালেব হোসেন, সহসভাপতি লিলি সরকার, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, সাবেক প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিনজু, যুবদলের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন ফকির, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক চন্দ্র এবং বিএনপি নেতা মোতালেব হোসেন ফকিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সম্প্রীতির বার্তা: অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলা। মধুপুরের মাটি বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত। আজকের এই আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে আরও সুসংহত করল। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন মধুপুরবাসীর মধ্যে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: উৎসবটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মধুপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় দায়িত্ব পালন করেছে। প্রতিটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ভক্তরা নিরাপদে রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন। রথযাত্রা শেষে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।