উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতিশীলতা আনতে ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় পর্যায়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং পরিকল্পনা বিভাগ বিষয়ক কার্য অধিবেশন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সকালে নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যে প্রকল্পগুলো অর্ধ সমাপ্ত হয়ে আছে, ঠিকাদার চলে গেছে বা পাওয়া যাচ্ছে না, নতুন ঠিকাদার নিয়ে সেই প্রকল্পগুলো আবার শুরু করতে এবং জনহিতকর প্রকল্পগুলো যাতে বিলম্ব না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি থেকে নেওয়া নতুন প্রকল্পগুলো নিয়েছি দায়িত্ব নিয়ে দেখভাল করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ডিসিদের বলেছি যে তাদের নিজেদের উদ্যোগেই স্থানীয়ভাবে জনহিতকর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। রাস্তাঘাট নির্মাণ করা ছাড়াও অনেক রাস্তা আছে কিন্তু সেতু নষ্ট হয়ে গেছে, কোথাও স্কুল ঘর আছে কিন্তু স্কুল ঘরগুলো ভগ্ন দশা, এগুলোর বিষয়ে তাদের উদ্যোগেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ বছরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণের ক্ষেত্রে যেকোনো কারণেই হোক পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে, বিতরণ শুরু করতে অনেক বিলম্ব হয়েছে। আমরা আগেই বলে দিয়েছিলাম যে প্রান্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন আগে বই চলে যায়।

সম্মেলনে আগামী এপ্রিল মাস থেকে অনুষ্ঠাতব্য এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও বিতরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

ডিসিদের নিজ নিজ শহরে বিশেষ কিছু নিদর্শন রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এমন কিছু নিদর্শন স্থাপন করুন যাতে অনেক পরেও সবাই বলতে পারে আপনি ওই শহরের প্রশাসক ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের নামে কোথাও কোনো কিছু হবে না।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে সামনে নির্বাচন আসছে, সেই নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু করা যায় সেটিই আমাদের সরকারের প্রধান কাজ। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকরা সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা প্রশাসনে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। এগুলো একটু নজরদারি করতে বলেছি। যেমন অনেক শিক্ষক তাদের ভাতা ঠিকমতো পান না। অনেক স্কুল পরিদর্শক আছেন যাদের হেনস্তার শিকার হন শিক্ষকরা। দুপক্ষের দোষ থাকে, এগুলো নজরদারি দরকার।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে অনেক সমস্যা আছে সেগুলো এক বছরে তো সমাধান হবে না। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোথাও স্কুল আছে শিক্ষক নেই, কোথাও ছাত্র আছে কিন্তু দালানকোঠা ভেঙে গেছে। এ অসংগতিগুলো এতদিন ছিল। এটা তো হঠাৎ করে রাতারাতি ঠিক করা যাবে না। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘাটতি থাকলেও যাতে শিক্ষার মান উন্নত হয়, তারা যাতে ভালো সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন সে চেষ্টা করব।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগামী বছরের বাজেটে উন্নয়ন খাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়ন বাজেটে খুব বেশি বরাদ্দ না থাকলেও পুরো বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে আমরা চেষ্টা করব অন্য বছরের তুলনায় আনুপাতিকভাবে একটু বেশি বরাদ্দ দিতে। কারণ যখন অবকাঠামো তৈরি করা হয় সেটা উন্নয়ন বাজেটে চলে যায়। যখন শিক্ষকদের কিছু সুবিধা দেওয়া হয় সেটা রেভিনিউ বাজেটে চলে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button