

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড় | ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
হিমালয়ের পাদদেশের জেলা পঞ্চগড়ে টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ক্রমেই নিম্নমুখী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
আবহাওয়া পরিস্থিতি: বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় মাঠ-ঘাট আচ্ছন্ন থাকায় দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিপর্যস্ত জনজীবন: টানা কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে অনেক এলাকায় মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। সদর উপজেলার জগদল এলাকার শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, “ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ না করলে সংসার চলে না, কিন্তু ঠান্ডায় বের হওয়াও মুশকিল।”
যানবাহন চালকরাও পড়েছেন বিপাকে। অটোচালক আশরাফুল ইসলাম জানান, হেডলাইট জ্বালিয়েও কুয়াশার ভেতর রাস্তা দেখা যাচ্ছে না, ফলে যাত্রী কম এবং আয় কমে গেছে। শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় গৃহিণীরা।
পূর্বাভাস: আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গত ১১ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে জেলায় আবারও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।




