‘বাবর হয়তো তার মুখোমুখি হতে চাইবে না’—নাহিদের প্রশংসায় হার্ডি

স্পোর্টস ডেস্ক:  ম্যাচ শেষে নাহিদ রানাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি। দারুণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশি পেসারের পিঠ চাপড়ে দিলেন। গতকাল (রোববার) ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসম্যানের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয়ে অ্যারন হার্ডি অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখালেও নাহিদের অবদানও কম নয়। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তাছাড়া দলকে ফাইনালে তুলতে পিএসএলের চলতি আসরের সেরা ইকোনমি রেটে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। গতকাল তার প্রত্যেক ডেলিভারিই যেন ২২ গজে আগুন ঝরিয়েছে। এমন পারফর‌ম্যান্সের পর ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড় হার্ডির প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি।

দারুণ বোলিংয়ে সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ স্বীকৃতি পেয়েছেন নাহিদ। অথচ চার ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া এই পেসারের আর খেলারই কথা ছিল না। ওয়ানডেতে খেলার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে বিশ্রাম দিলেও পিএসএলে খেলার জন্য অনাপত্তি পত্র (এনওসি) দেওয়া হয়নি। তবে তার দল পেশোয়ার ফাইনালে উঠায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। মূলত দলটির অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কর্ণধার জাভেদ আফ্রিদি নাহিদকে খেলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

জাভেদ ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। নাহিদকে একাদশে রাখার সুফলও পেয়েছে তার দল। ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়ে এই টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন বাংলাদেশি পেসার। ফাইনাল জিতে ৯ বছরের ট্রফি খরা ঘুচিয়েছে পেশোয়ার। ম্যাচ শেষে নাহিদের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি হার্ডি।

বাংলাদেশি পেসারকে নিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় বললেন, ‘হ্যাঁ, (কতটা ভালো) একদমই তাই। আমি বলতে চাচ্ছি, সে মাত্র তিন দিন আগে বিমান থেকে নামল এবং আজকেও দুর্দান্ত গতিতে বল করল। করাচিতে যখন সে ১৫১ কিমি গতিতে বল করছিল, তখন ব্যাটারদের জন্য সেটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আমি জানি এক সপ্তাহ পরেই তার টেস্ট ম্যাচ আছে; এটাও জানি যে বাবর সম্ভবত তার মুখোমুখি হতে চাইবে না। তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি সে বিশ্বের যেকোনো প্রতিযোগিতায় ঘুরে ঘুরে খেলছে; তার মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে সবাই সানন্দে গ্রহণ করবে। আমি তার জন্য খুবই আনন্দিত।’

পিএসএলের এবারের আসরের আগে নিলাম থেকে ৬০ লাখ রুপিতে নাহিদকে দলে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে তার অনুভূতি, ‘আমি এটি সত্যিই উপভোগ করলাম। গত বছর আমি এসেছিলাম কিন্তু খেলিনি। এ বছর আমি এসেছি এবং এটি সত্যিই উপভোগ করেছি। আমি কেবল আমার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে এবং দলের জন্য একটি প্রভাবশালী পারফরম্যান্স করতে চেয়েছিলাম। আমি আমার পারফরম্যান্স ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তাই আমি খুশি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button