

✍️ মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী
আল্লাহ তাআলা বলেন, জন্মদাত্রী মাতাগণ তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, যদি তারা দুধপানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায় (বাক্বারাহ ২/২৩৩)।
অর্থাৎ পূর্ণ দুই বছর শিশুর শরীর গঠনে মায়ের দুধ জরুরী। তবে এরপরেও যদি মা শিশুর কল্যাণের জন্য দুধ পান করায় তাতে কোন দোষ নেই। কেননা অত্র আয়াতে দুগ্ধদানের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
‘আর তার (সন্তানের) দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে।’ (সুরা লুকমান ১৪) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘মায়ের দুধ পান করানোর সময় দুই বছরই।’
সুতরাং দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর সন্তানকে আর দুধ পান করানো যাবে না। কেউ কেউ এটাও বলে থাকেন যে, শিশুর স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা থাকলে কিংবা অন্য খাবারে অভ্যস্ত না হলে আড়াই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানোর সুয়োগ আছে। এ ধারণাও ভুল। কোনোভাবেই শিশুকে দুই বছরের বেশি বুকের দুধ পান করানোর সুযোগ নেই। শিশু অন্য খাবারে অভ্যস্ত না হলেও।
আজকাল বাজারে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি অনুপাতে বিভিন্ন কোম্পানির গুঁড়া দুধ পাওয়া যায়। সুতরাং অন্য খাবারে অভ্যস্ত না হলেও তেমন অসুবিধা নেই। দুই বছরের বেশি যেন বুকের দুধ পান করাতে না হয় সে জন্য পূর্ব থেকেই শিশুকে অন্য খাবারে অভ্যস্ত করা উচিত এবং এক বছর আট-নয় মাস হলেই বুকের দুধ কমিয়ে দেওয়া উচিত। যেন যথাসময়ে দুধ ছাড়ানো শিশুর জন্য কষ্টের কারণ না হয়ে যায়। (আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৩, ফাতহুল কাদির ৩/৩০৭)



