

★★★✍️মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী।
★★★ نُزُولُ سَيِّدِنَا عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ…
★হযরত ঈসা (আ)-এর পরিচয়…
হযরত ঈসা (আ) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত বান্দা নবী ও রাসূল। তিনিই একমাত্র আদম সন্তান, যিনি পিতৃহীনভাবে মাতা মারইয়াম (আ)-এর গর্ভে জন্মলাভ করেন।
মূলত হযরত ঈসা (আ) ছিলেন আল্লাহর বান্দা নবী ও রাসূল তাঁর ওপর আসমানী কিতাব ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছিলো।
★শেষ জামানায় ঈসা (আ) যেভাবে আসবেন…
আমাদের নবী মুহাম্মদ (স) সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষনবী। তারপর আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি বলেছেন,
أَنَا خَائِمُ الْأَنْبِيَاءِ لَا نَبِيَّ بعدی.
অর্থাৎ, আমিই নবীদের শেষ। আমার পর আর কোনো নবী পৃথিবীতে আসবে না।
বস্তুত হযরত ঈসা (আ) শেষ নবীর উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। যার কারণে খ্রিস্টানদের এক অবাধ্য পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁর কুদরতে ঈসা (আ)-কে জমিন হতে তুলে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি জীবিত অবস্থায় চতুর্থ আসমানে আছেন। শেষ জামানায় তিনি মহানবী (স)-এর উম্মত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং ইসলাম ধর্মের একজন প্রচারক হিসেবে নেতৃত্ব দিবেন।
★হযরত ঈসা (আ) যেথায় অবতীর্ণ হবেন...
হযরত ঈসা (আ) কিয়ামতের আগে এবং দাজ্জাল আসার পরে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন। তিনি সিরিয়ার দামেশক নামক শহরের পূর্বপ্রান্তে (মসজিদের) সাদা মিনারের কাছে অবতীর্ণ হবেন। দাজ্জালকে ধাওয়া করে তাকে ‘লুদ’ নামক গেটের কাছে হত্যা করবেন।
এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) বলেন,
إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ بَنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرِّقَ دِمَشْقَ بَيْنَ وَدَتَيْن وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى احْنَة مَلَكَ إِذَا طَاطَ : قَطَ مَاذَا رَفَعَهُ تَحذَرَ منه….
অর্থাৎ, এমন সময় মহান আল্লাহ মারইয়াম তনয় মসীহ (ঈসা) কে পাঠাবেন। সুতরাং তিনি দামেশকের পূর্বপ্রান্তে শ্বেত মিনারের কাছে অবতীর্ণ হবেন, হালকা হলুদ রঙের দুটো কাপড় পরিধেয় অবস্থায়, দু’জন ফেরেশতার ডানার উপর হাত রেখে। তিনি মাথা নিচু করলে (ঘাম) টপকাবে, আর মাথা উচু করলে তার চুল থেকে মুক্তা যেমন রূপার টুকরার মতো পড়তে থাকবে। কোনো কাফির তাঁর নিঃশ্বাসের গন্ধ পাওয়া মাত্রই মারা যাবে। তাঁর নি:শ্বাস ততদূর পর্যন্ত পৌঁছবে যতদূর পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি যাবে। তারপর তিনি দাজ্জালকে তালাশ করতে থাকবেন, অবশেষে তিনি তাকে ‘লুদ’ নামক গেটে পাবেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাকে হত্যা করবেন।
★হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের পরবর্তী অবস্থা…
হযরত ঈসা (আ) শেষ জামানায় মুহাম্মদ (স)-এর উম্মত হিসেবে আগমনের পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে মহানবী (স) বলেন,
فيكسر الصليب ويقتل الخِنْزِير وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيُعَطِلُ الْمِلَلَ حَتَّى يُهْلِكَ اللَّهُ فِي زَمَانِهِ الْعِلَلَ كُلَّهَا غَيْرَ الْإِسْلَامِ وَيُهْلِكُ اللهُ فِي زَمَانِهِ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ الْكَذِبَ مَعَ الْأَسَرِ جَمِيعًا وَالتَّمُورُ مَعَ الْبَقَرَ وَالذَّتَابِ وتقع الآمنة فِي الْأَرْضِ حَتَّى تَرْتَ الإِبلُ مَعَ مَعَ الْغَنَمِ وَيَلْعَبُ الصَّبْيَانِ وَالْغِلْمَانُ بِالْحَيَّاتِ لَا يَضُرُّ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَيَمْكُثُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَمْكُثُ ثُمَّ يُتَوَفَّى فَيُصَلِّي عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ وَيَدفنونة (مدة الحمام
অর্থাৎ, তিনি আগমন করে ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, কর রহিত করবেন এবং বাতিল ধর্মসমূহ দূরীভূত করবেন। এমনকি তাঁর আমলে আল্লাহ ইসলাম ছাড়া সব বাতিল ধর্ম নস্যাৎ করে দিবেন। আল্লাহ তাঁর জামানায় চরম মিথ্যুক ও এক চোখ অন্ধ দাজ্জালকে ধ্বংস করবেন। জমিনে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে। এমনকি উট সিংহের সাথে, চিতাবাঘ গাভীর সাথে, নেকড়ে বকরির সাথে বসবাস করবে। আর শিশু কিশোররা সাপ-বিচ্ছুর সাথে খেলাধুলা করবে। অথচ কেউ কারো ক্ষতিসাধন করবে না। আল্লাহ তাআলার যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ পর্যন্ত হযরত ইসা (আ) জমিনে থাকবেন। এপর তার ইন্তেকাল হবে। অতঃপর মুসলমানগণ তাঁর জানাযার নামায পড়বেন এবং তাঁর দাফন সম্পন্ন করবেন।
[মুসনাদে আহমদ]
অপর এক বর্ণনায় পাওয়া যায় মহানবী (স) বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُوشِكُ أَنْ يَنْزِلَ فِيكُمُ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَادِلاً وَامَامًا مُفْسِطًا.
অর্থাৎ, যার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার শপথ করে বলছি, অতিসত্বর তোমাদের নিকট মারইয়াম (আ)-এর পুত্র ন্যায়নিষ্ঠাবান
শাসক হিসেবে
আগমন করবেন।
[মুসনাদে আহমদ বুখারী]
★হযরত ঈসা (আ)-এর মৃত্যু ও দাফন...
হযরত ঈসা (আ) এ পৃথিবীতে আবির্ভাবের পর মুসলমানদের তৎকালীন ইমাম মাহদী (র)-এর পিছনে সালাত আদায় করবেন। যেমন নবীজী এক হাদিসে বলেন,
كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَأَمَا مُكُمْ مِنكُمْ
অর্থাৎ, ঐ সময় তোমাদের কেমন লাগবে যখন মারইয়াম তনয় তোমাদের মাঝে অবতীর্ণ হবেন এবং তোমাদের ইমাম তোমাদেরই মধ্য থেকে হবে। তারপর তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীতে অবস্থান করবেন এবং বিবাহ-শাদীও করবেন
এবং তার সন্তানও হবে। অবশেষে তিনি ইন্তিকাল করবেন। তাঁকে নবীজীর কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ সম্পর্কে নবীজী (স) বলেন,
يَنْزِلُ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ إِلَى الْأَرْضِ فَيَتَزَوَّجُ وَيُولَدُ لَهُ وَيَمْكُتُ خَمْسًا وَارْبَعِينَ ثُمَّ يَمُوتُ م أَنَا وَعِيسَى بْنُ مَرْيَمَ فِي قَبْرٍ وَاحِدٍ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ . فَيُدْفَنُ مَعِي فِي قَبْرِي فَأَقُومُ أَنَا وَعِيسَى :
অর্থাৎ, মারইয়াম তনয় ঈসা (আ) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন। তারপর তিনি বিবাহ করবেন এবং তাঁর সন্তানও হবে। তিনি (পৃথিবীতে) ৪৫ বছর অবস্থান করবেন। তারপর তিনি ইন্তিকাল করলে আমার সাথে আমার কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। সুতরাং আমি ও মারইয়াম তনয় ঈসা আবু বকর ও ওমরের মাঝখান হতে একই কবরস্থান থেকে উঠব।
★ পরিশেষে বলবো…
জালিমের জুলুম প্রতিহত করতে কিয়ামতের পূর্বেই হযরত ঈসা (আ)
শেষনবীর উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় আগমন করবেন। বিষয়টি কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত। তিনি এসে উম্মতে মুহাম্মদীর নেতৃত্ব দিবেন এবং ইসলামী খেলাফত কায়েম করবেন আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের কে বুঝার তাওয়াফিক দান করেন আমিন।




