

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং জনগণের ৬৮.৫৯ শতাংশ ম্যান্ডেটকে নস্যাৎ করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির রাজপথে সক্রিয় থাকবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
সভায় আলোচিত প্রধান দিকগুলো হলো সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ ২৫টি রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ আজ হুমকির মুখে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষ এই সনদের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমানে সরকার ও কিছু রাজনৈতিক দল এই ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য করছে।
মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো ১৫টি মৌলিক সংস্কারের অধ্যাদেশ রহিত বা সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করা হয়।
বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছ বাছাই কমিটি এবং সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় বাধা দানকে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া মানেই জনগণের সরাসরি রায়কে অগ্রাহ্য করার লাইসেন্স পাওয়া নয়। জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের ‘টালবাহানা’কে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন ছাত্রশিবির সভাপতি।
বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




