

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী জয় কালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে স্কুল শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা দুইটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এই ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ওই এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ফাহিম শেখ (২২) নামের যুবককে কুপিয়ে যখন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে জানা গেছে। আহত ফাহিম বজ্রযোগিনী এলাকার দেলোয়ার শেখের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার রামশিং এলাকা থেকে কয়েকজন যুবক দুপুরে বজ্রযোগিনী জয় কালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করলে স্থানীয় ফাহিম শেখ তাদের বাধা দেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে ফের বিকেল ৩টায় লোকজন নিয়ে রামশিং এলাকার মুন্না ভূঁইয়া, আপন ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন জড়ো হন।
তারা তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ফাহিম শেখকে সুইচগিয়ার দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। পরে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ধাওয়া দিলে মোটরসাইকেল রেখেই পালিয়ে যান তারা। পরে মোটরসাইকেলগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।
স্থানীয় বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন এমরান বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। তৃতীয় দফা সংঘর্ষের সময় বিচার সালিশির কথা বলে ডেকে নিয়ে ফাহিম নামের যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ ঘটনায় আহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হইনি, অভিযান চলছে। উত্যক্তের প্রতিবাদ থেকে পরে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।



