বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

জেলা প্রতিনিধি: সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় অর্ধশত আহত হয়েছেন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। ভোলার মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন।

টেকনাফে নির্বাচনি প্রচারণার গাড়িতে গুলিবর্ষণে শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছে। বাগমারায় হামলায় জামায়াতের ৫ সমর্থক আহত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গণসংযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলায় আহত হয়েছেন ৭ জন। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাগুরার মহম্মদপুরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনে জামায়াতের ৫ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : চাঁদপুর- ৪ আসনের ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানের নির্বাচনি প্রচরণার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়েছে পুরো ফরিদগঞ্জে। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাজারে সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। খাজুরিয়া বাজারের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত দুজনকে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এদিকে খাজুরিয়া বাজারে নির্বাচনি প্রচারণায় অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে মো. আল আমিন (২৬) ও মো. কাশেমকে (৩৬) আটক করে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম জাহিদ হাসানের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মনপুরা (ভোলা) : ভোলার মনপুরায় নির্বাচনি প্রচার ও ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে মাস্টারহাট বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের আলম কলোনির সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালীতে ধানের শীষ প্রার্থীর প্রচারণার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছররা গুলি ছুড়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ২ জন রোহিঙ্গা ও ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বৃহস্পতিবার রাতে আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীরা জানান, রাতে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণার গাড়ি আলীখালীতে পৌঁছলে, গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে ওই গুলি কে বা কারা করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাগমারা (রাজশাহী) : বাগমারার শ্রীপুর ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি কর্মীদের পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় জামায়াতের ৫ সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আ.লীগ নেতাও রয়েছেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় বিএনপির কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাদের ৫ জন সমর্থককে আহত করেছে বলে বাগমারা উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার কামরুজ্জামান হারুন অভিযোগ করেন। তবে শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম পারভেজ ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করে শুক্রবার যুগান্তরকে বলেছেন, নির্বাচনবিরোধী উসকানিমূলক কথাবার্তা বলায় এবং ধানের শীষ প্রতীকের ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গণসংযোগকালে ফুটবল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার আলীপুরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ৭ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, আলীপুরা গ্রামে গণসংযোগের সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।

বুড়িচং (কুমিল্লা) : কুমিল্লা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডক্টর মোবারক হোসেনের নির্বাচনি অফিসে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি এই হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিজেই। বুড়িচংয়ের ময়নামতি সাবের বাজারের নির্বাচনি অফিসে এই হামলা চালানো হয়। বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত করে হামলাকারীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, বিএনপির কোনো কর্মী জামায়াতের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর বা হামলা করেনি।

মহম্মদপুর (মাগুরা) : মাগুরার মহম্মদপুরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালে প্রচারণা ও কম্বল বিতরণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন আমিরসহ ৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের আমির হুসাইন আহম্মেদ কাবুল, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল, ওবায়দুল্লাহ বিন হাফিজার, হাবিবুল্লাহ এবং এরশাদ নামে ৫ জন মাগুরা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী এমবি বাকরের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তারা মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু করেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালিদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী আকবার মোল্যাকে কম্বল দিয়ে ভোট চাইতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেখানে আলী আকবারের সঙ্গে ওই জামায়াত নেতাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হলে হাসপাতালের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. শাহানুর জামান এবং মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হন। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ ওই ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওসি জানান, নির্বাচনি আইন ভঙ্গের দায়ে তাদের আটক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা দিয়ে তাদের মাগুরা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button