

আন্তর্জাতিক: আফ্রিকার দেশ ঘানায় প্রেসিডেন্ট জন মাহামার একটি দাবি ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে নিয়োগকর্তারা চাকরির বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক দাবি করেন, তাদের শাস্তি দিতে কঠোর আইন চান তিনি। কিন্তু ঘানার মতো দেশে আইন কঠোর হলেও কি নিয়োগকর্তা এবং চাকরিপ্রার্থীর এই ‘অনৈতিক’ আদান-প্রদান বন্ধ করা সম্ভব?
• ঘানায় কেন যৌনতার বিনিময়ে চাকরি?
ঘানায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। চাকরির বাজার তাই তীব্র প্রতিযোগিতাময়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছ। বিশেষ করে তরুণী চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ ‘অনৈতিক’ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি এমন বলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামার দাবিকে সমর্থন করছেন অনেকেই। ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট জন কুফোরের আইনজীবী ও সাবেক আইনি উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন অবস্থান নেওয়ায় আমি খুব খুশি। এটা শোষণমূলক আচরণ; এটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেওয়াটা এক ধরনের দুর্নীতি। সভ্য সমাজে আমরা তা সহ্য করতে পারি না।
সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপ-পরিবহনমন্ত্রী নিই কোয়ার্তেই গ্লোভারের মতে, (যৌনতার বিনিময়ে চাকরির) এই প্রথার প্রসারে নারীদের ওপর পুরুষদের পিতৃতান্ত্রিক প্রভাবেরও ভূমিকা রেখেছে।
• সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগে কি পরিবর্তন সম্ভব?
অনেকেই মনে করেন, যৌনতার বিনিময়ে চাকরির বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হলে কর্মক্ষেত্রে অধিকার সংক্রান্ত কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হবে। অধিকারকর্মীদের মতে, এমন আইন মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অপরাধের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেবে। এর পাশাপাশি এই অপরাধকে সাধারণ হয়রানি বা ঘুস লেনদেনের মতো অপরাধের চেয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে। তাদের আরো প্রত্যাশা, এমন আইন হলে তাতে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হবে। এর ফলে যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার মতো অপকর্ম সমাজে কেবল অনভিপ্রেত আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে না, তা তখন ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তবে ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, দিনশেষে আমার মনে হয়, এই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর প্রকৃত গঠনশৈলী ও প্রয়োগের ওপর। কারণ, ঘানায় অনেক চমৎকার আইন থাকলেও সেগুলো প্রয়োগের পর্যায়ে এসেই পুরো প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে।




