ঋতুপর্ণার বাড়ির জট কাটাতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রাণভোমরা ‍ঋতুপর্ণা চাকমা। তার জোড়া গোলে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়া কাপের মূল পর্বে প্রথমবারের মতো খেলেছে। তার গোলেই বাংলাদেশ ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে টানা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের এই তারকা ও তার পরিবার রাঙামাটিতে জীর্ণশীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন। ঋতুপর্ণার বাড়ির জটিলতা কাটাতে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমানে সরকারি সফরে তুরস্কে অবস্থান করলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিনি সেখান থেকেই একটি প্রতিনিধি দল রাঙামাটিতে পাঠিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রতিনিধি দল সরেজমিনে ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দীর্ঘ কয়েক বছরেও কেন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি, তার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করেন। প্রতিনিধি দলে থাকা প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব এস এম আশরাফ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন কর্মকর্তা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে  বৈঠক করেন।

এস এম আশরাফ বলেন, ‘রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বলেছেন, ‘জেলা প্রশাসন বাড়িটি তৈরি করে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।’

২০২৫ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতুপর্ণা চাকমাকে ১২ শতক খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং ঋতুপর্ণা নিজেও সেই জমি দেখে এসেছিলেন। তবে জানা যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি এখনও জমির দখল বুঝে পাননি। এক সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের আন্তরিকতা থাকা স্বত্তেও শুধুমাত্র পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারনে ঋতুপর্ণা এখনো বাড়ি পায়নি। গত বছর ২৫ আগষ্ট হওয়া মিটিংয়ে আরেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে বন্দোবস্তি যেহেতু দেয়া যাবে না, তাই পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে ১০ শতক জায়গা ক্রয় করে ঐ জায়গায় বাড়ি করে দিবে মন্ত্রণালয়। সেটাও আর পরবর্তীতে বাস্তবায়ন হয়নি।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি জানিয়েছে, রাঙামাটি সফরে মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য ও প্রতিবন্ধকতার বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যাতে দেশের এই কৃতি ফুটবলার দ্রুত তার প্রতিশ্রুত সরকারি বাড়ি বুঝে পান। প্রতিমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ঋতুপর্ণার পরিবারের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিসিবির বিগত কমিটি ঋতুপর্ণাকে বাড়ি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জমি সংক্রান্ত জটিলতায় সেটা হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button