গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের নিউজ প্রকাশ করায় সাংবাদিক লোকমানের বাড়িতে হামলা ১৪!

নিয়াজ খান, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের উপজেলার কইন্নাজঙ্গল এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে লোকমান আহমদ নামে এক সংবাদকর্মীর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় নারী-পুরুষসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অঙ্গহানির ঘটনাও ঘটেছে।

আহতরা এ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের এ ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (২৪ মে) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর সদর ইউনিয়নের লুনী গ্রামে লোকমান আহমদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- তোফায়েল (২৩), জালাল উদ্দিন (৩৪), লিমা বেগম (২৫), আলকুমা বেগম (৩৫), আল আমিন (২২), রুহুল আমিন (১৯), উস্তার মিয়া (৩৮), ফখরুল ইসলাম (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৫২), মুহিবুর রহমান (৫৫), সিরাজ উদ্দিন, মাসুক আহমদ (৪০), লোকমান আহমদ (৩৫) ও আলিফান বিবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কইন্নাজঙ্গল এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় কামরুল ও খয়রুল বাহিনী অবৈধভাবে দেদারছে বালু উত্তোলন করে আসছে। সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের ভাতিজা তোফায়েলও আগে ওই বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রায় ২০ দিন আগে তিনি তাদের দল থেকে সরে এসে নিজেই বালুর ব্যবসা শুরু করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও বিরোধ সৃষ্টি হয়।

বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে রোববার ভোরে বালু উত্তোলনস্থলের পাশে থাকা অস্থায়ী ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় তোফায়েল ও লোকমান আহমদের ভাই উস্তার আলীর ওপর হামলা চালায় কামরুল ও খয়রুল বাহিনীর সদস্যরা। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উস্তার আলীর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরে আহতরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাড়িতে এলে হামলাকারীরা ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে লোকমান আহমদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং নারী-পুরুষসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংবাদকর্মী লোকমান আহমদ বলেন, বালু খেকো কামরুল ও খয়রুল পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের বাহিনী নিয়ে ভোর রাতে বালুর সাইটে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার ভাই ও ভাতিজার ওপর হামলা চালায়। পরে তারা প্রাণ বাঁচাতে বাড়িতে আসলে ৫০ থেকে ৬০ জনের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর চালানো হয়। হামলায় আমাদের পরিবারের ১৪ জন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামরুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button