

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আজারবাইজানের একটি বিমানবন্দর ও স্কুলের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ ইরানের সাথে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংঘটিত এই হামলায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার পর তেহরানকে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে ইরান সীমান্ত পেরিয়ে দুটি ড্রোন দেশটির নাখচিভান ছিটমহলে প্রবেশ করে। প্রথম ড্রোন নাখচিভান বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে আঘাত হানে। দ্বিতীয় ড্রোন শেকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুলের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এই হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি দুইজন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।
হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আজারবাইজানের সামরিক বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ইরানে পাল্টা অভিযান চালানো হতে পারে।” ঘটনার প্রতিবাদে বাকুতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকেও তলব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ড্রোন হামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজানের দিকে কোনো ড্রোন ছোড়েনি।” বরং এই ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র দেখছে তারা। ইরান সরকারের দাবি, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করতে ইহুদিবাদী গোষ্ঠী এই কাজ করে থাকতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই আজারবাইজানের সাথে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন। তেহরানের আশঙ্কা, আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাতে পারে। যদিও বাকু বারবার এই আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছে। এছাড়া ইরানের ভেতরে বিশাল সংখ্যক জাতিগত আজারবাইজানি জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি তেহরানের জন্য সব সময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়।
সূত্র: এএফপি।




