পরাজয়ের ভয়ে ছাত্রদল শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে চায়: ডা. তাহের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বন্ধে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের আন্দোলনকে ‘পরাজয়ের ভয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক পরাজয় এবং সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারানোর কারণেই ছাত্রদল এই অবস্থান নিয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. তাহের বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। নির্বাচন কমিশনের কাজ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করা, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা তাদের এখতিয়ারের বাইরে।” তিনি অভিযোগ করেন, শাবিপ্রবির নির্বাচনকে অবৈধভাবে একবার স্থগিত করার সুযোগ নিয়েই ছাত্রদল আন্দোলন করার সাহস পেয়েছে।

ছাত্রদলের আন্দোলনের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. তাহের ডাকসু, চাকসু, রাসু এবং জকসু নির্বাচনে তাদের ধারাবাহিক পরাজয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদল আশা করেছিল লন্ডন থেকে তাদের নেতা আসার পর পরিস্থিতি বদলে যাবে, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ ছাত্ররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সিলেটেও একই ফলাফল হবে জেনেই তারা নির্বাচন বন্ধ করতে চায়।”

বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “ছাত্ররা যখন ছাত্রদলকে ভোট দেয় না, তখন তারা বলে এর কোনো জাতীয় প্রভাব নেই। কিন্তু তারা জিতলে ঠিকই বলত জাতি জামায়াতকে চায় না।”

ক্যাম্পাসগুলোতে দখলবাজি ও অনৈতিক সুবিধার দিন শেষ হয়ে আসছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের পর এক ইতিবাচক সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন অনেক সচেতন।” এ সময় তিনি নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে অনৈতিক সুবিধা প্রত্যাখ্যানের উদাহরণ দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. তাহের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘অবৈধ’ অভিহিত করে তার দ্রুত অপসারণ দাবি করেন। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং এতে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও মারামারি সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button