রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’-এর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গভীর লজ্জা ও বেদনা প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক আবু সাঈদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে একটি ‘বড় ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র শেষ হওয়ার পর শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের একাংশ এতে জুলাই আন্দোলনের সঠিক প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তুলে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মঞ্চে গিয়ে প্রামাণ্যচিত্রের অসংগতি সংশোধনের দাবি জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাৎক্ষণিকভাবে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। উত্তেজনার একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। তবে হট্টগোলের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন বিদেশি অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম ভুল যেটা দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। ডকুমেন্টারিতে খালেদা জিয়ার ছবিও নেই।”
মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রাখা এবং সংসদীয় কায়দায় ‘ওয়াকআউট’ করাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল। এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করাটা বাঞ্ছনীয় নয়।”
বর্তমান সরকারের সমালোচনা ও দলীয় অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমাদের ভুল হলে সেটি শুধরে দেবেন। আমরা আওয়ামী লীগ হতে পারব না। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই।”
এ সময় এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর অনুসারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও অনেক সময় কর্মীরা নেতার নির্দেশ মানতে চান না। বিদেশি অতিথিদের সামনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!