মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামে ‘শাহজালাল পান কবিরাজ’-এর বিরুদ্ধে জ্বিনের অসিলায় সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংসারে অশান্তি দূর করা, বন্ধ্যাত্ব নিরাময়, পছন্দের মানুষকে পাইয়ে দেওয়া এবং অবাধ্য সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে আনার মিথ্যা আশ্বাসে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, শাহজালাল পান কবিরাজ প্রতিদিন নিজের বাড়িতে আসন বসিয়ে রোগীদের নানা ভয়ভীতি দেখান। তিনি দাবি করেন, রোগীদের বাড়িতে শত্রুতাবশত তাবিজ বা পুতুল পুঁতে রাখা হয়েছে এবং তার বিশেষ জ্বিনের সাহায্যে সেগুলো তুলে এনে সমাধান করা সম্ভব। এই নাটক সাজিয়ে তিনি হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা এবং ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিভিন্ন মালামাল। এরপর বাড়ি বন্ধ করা ও তাবিজ দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। প্রতি রোগীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হয় ১২০ টাকা করে নজরানা ফি।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তার আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে তাকে এলাকাছাড়া করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের একটি অংশকে ম্যানেজ করে তিনি ফের একই স্থানে আস্তানা গড়ে তোলেন এবং আগের মতো প্রতারণা শুরু করেন।

শ্রীনগর উপজেলার শিমপাড়া গ্রামের দুলাল বেপারীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, তার মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মেয়ের চিকিৎসার জন্য কবিরাজের কাছে গেলে তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। কোনো কাজ না হওয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আরেক নারীর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি কবিরাজের বাড়িতে গিয়ে তাকে জুতোপেটা করতে চেয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার জানান, কবিরাজ কোরআনের আয়াত আগুনে পুড়িয়ে এবং সিঁদুর দিয়ে মেখে চরম অবমাননা করেছেন। সর্বস্বান্ত এসব পরিবার ধার-দেনা করে টাকা দিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

একাধিক অভিযোগ সিরাজদিখান থানায় জমা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত এই ভণ্ড কবিরাজের আস্তানা চিরতরে গুড়িয়ে দিয়ে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।