নাটোরের গুরুদাসপুরে ধার দেওয়া ১০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে রফিকুল ইসলাম জামিনদার হয়ে রুহুল আমিনের কাছে ১০ হাজার টাকা ধার দেন মোঃ উজ্জল হোসেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বললেও রুহুল টালবাহানা করছিলেন বলে অভিযোগ করেন রফিকুল। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি রুহুলের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রুহুল তাঁকে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন বলে অভিযোগ করেন রফিকুল।
এ সময় রফিকুল চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা তাঁকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।
এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত রুহুল আমিন (০২ অক্টোবর) শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে রফিকুলের বিরুদ্ধে মারধোর ও ভাঙ্গচুরের অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুনরায় অসুস্থ হয়ে গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক ডেকে এক ভিডিও বার্তায় রফিকুল বলেন, শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যে সুদের ১০ হাজার টাকার যে অভিযোগ দিওয়া হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার ভাতিজা উজ্জল হোসেন আমাকে জামিনদার করে ১০ হাজার টাকা রুহুল আমিনকে ধার দেন। ২ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য টালবাহানা শুরু করে রুহুল। আমি বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা চাইতে রুহুলের বাসায় গেলে সে আমাকে মারধোর করে। আমি হার্ট ও ডায়াবেটিস এর রুগী, আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। আমার বিরুদ্ধে করা মিথ্যে ও ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
এ ঘটনায় উজ্জল হোসেন বলেন, রুহুল এর আগেও বিভিন্ন সময় আমার থেকে টাকা ধার নিয়েছে। এবারেও ১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে টাকা না দেওয়ার টালবাহানা শুরু করে । আমার চাচা রফিকুল ইসলাম এই টাকা ধারের জামিনদার মাত্র। তার মাধ্যমে টাকা চাইতে গেলে রুহুল আমার চাচার উপর চরাও হন। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি । তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠ বিচার ও আমার টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার এসআই নাসিফ বলেন, উভয় পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!