২১ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে নিজের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই কিংবদন্তি। ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্টের পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনা দলের শেষ গোলটিও করেন এলএমটেন।

ম্যাচ শেষে বিদায়ী মুহূর্তে পুরো স্টেডিয়াম যখন অশ্রুসিক্ত, তখন এক মিশ্র আবেগে মাইক হাতে তুলে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। হাসিমুখ দিয়ে বক্তব্য শুরু করলেও কথা বলার সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই মাসখানেক আগে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে স্মরণ করে আবেগপ্লুত মেসি বলেন, “কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা। আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।”

জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। বিশ্বকাপে আমরা নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।”

প্রিয় মাঠ ও আকাশি-সাদা জার্সি ছেড়ে যাওয়ার কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, “এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।”

সতীর্থদের বীর যোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ– বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।”

পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি সমর্থন ও দেশের ফুটবল ভক্তদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবারষ্টাও দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, “এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব– এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবাইকে সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

সবশেষে কান্না ভেজা কণ্ঠে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসার বার্তা দিয়ে বিদায় জানান ফুটবলের এই বরপুত্র, “আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না, এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে এবং নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।”