হৃদয়ের গভীর লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে গাজীপুরে উদযাপিত হলো বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও গণভোজে হাজারো মানুষের উপচে পড়া ঢল নামে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।

৬ জুন শনিবার (২০২৬) সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের ঢল নামতে থাকে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, হাফেজ, ইমাম, হজ পালনকারী মুসল্লি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ।

শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ সালাহ্উদ্দিন সরকারের উদ্যোগ, তত্ত্বাবধান ও সার্বিক সহযোগিতায় এই ব্যতিক্রমী ও বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলেকের সভাপতিত্বে এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ লিয়াকত আলীর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মোঃ সালাহ্উদ্দিন সরকার।

আলহাজ্ব মোঃ সালাহ্উদ্দিন সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি আদর্শ, একটি চেতনা এবং একটি সংগ্রামের নাম।" তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সভায় অন্যান্য বক্তারা স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি নির্মাণে শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে ওলামা দল টঙ্গী পূর্ব থানার সভাপতি আবু তাহেরের পরিচালনায় এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপি’র জন্য আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ নেতাকর্মী ও প্রয়াত সহযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে মরহুম সিরাজউদ্দিন সরকারসহ সরকার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের জন্যও বিশেষ দোয়া করা হয়। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় উপস্থিত হাজারো মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় "আমিন"।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশাল গণভোজ। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মী, অতিথি এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ করেন।

উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেন, দীর্ঘ সময়ের মধ্যে গাজীপুরে এমন আন্তরিক, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও ব্যাপক জনসমাগমপূর্ণ আয়োজন খুব কমই দেখা গেছে। দিনশেষে অনুষ্ঠানটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং রূপ নেয় শ্রদ্ধা, ঐক্য ও প্রার্থনার এক মহামিলনে।