রাজধানীর অন্যতম অভিজাত এলাকা বনানীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারের আড়ালে চলছে ভয়াবহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদকের রমরমা বাণিজ্য। বনানী সি-ব্লকের ১৭ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িতে (স্বনামধন্য স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের সামনে) ‘হ্যাপি আওয়ার স্পা’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন আরমান ও রবিন নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি।
এমন প্রকাশ্য অনৈতিকতায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ও গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই ভবনে বহিরাগত পুরুষদের আনাগোনা থাকে। তথাকথিত এই স্পা সেন্টারে নারীদের দিয়ে পুরুষদের ম্যাসাজ করানোর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কক্ষগুলোতে চলছে প্রকাশ্য দেহ ব্যবসা ও মাদকের কেনাবেচা। মূলত স্পা’র আড়ালে এটি একটি সুরক্ষিত অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন: "অভিজাত এই আবাসিক এলাকায় দিন-দুপুরে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে কলুষিত করছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা স্থানীয় থানাকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি মাসেই এই স্পা সেন্টার থেকে বিপুল অংকের মাসোহারা বা অবৈধ অর্থের লেনদেন নির্দিষ্ট কিছু মহলে পৌঁছানোর কারণে প্রশাসন দৃশ্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অপরাধের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন: "তারা আমাদের কাছ থেকে বিউটি পার্লারের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে এই ধরণের অসামাজিক ব্যবসা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে একে আইনের আওতায় আনা হবে।"
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, যুবসমাজ ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে অবিলম্বে এই অবৈধ আখড়াটি সিলগালা করা হোক এবং মূল হোতা আরমান ও রবিনসহ এই চক্রের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!