আগামী ৩০ জুন পাস হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজীকরণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় চূড়ান্ত সংস্করণে করপোরেট কর হ্রাস, আয়কর মুক্তসীমা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন-এর বাধ্যবাধকতা বাতিলের মতো জনবান্ধব সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে শর্তসাপেক্ষে করপোরেট করহারে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আড়াই শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদ দাখিলের যে বাধ্যবাধকতা প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা চূড়ান্ত বাজেটে বাতিল করা হতে পারে।

মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থাকা করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে। অন্যান্য করদাতাদের ক্ষেত্রেও আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণ বিক্রির ওপর ১৫ শতাংশ ‘গেইন ট্যাক্স’ আরোপের ঘোষণা ছিল, যা চূড়ান্ত বাজেটে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার প্রবণতা রোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ থাকা করহার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

এনবিআর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ছাড়গুলো দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনার মুখে সরকার তা থেকে সরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারের স্বার্থে লভ্যাংশ কর আগের মতোই ২০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত বাজেটের এই পরিবর্তনগুলো মূলত ব্যবসার পরিবেশ সহজতর করা এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর চাপ কমানোর একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।