জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘লেইস’ (LAISE) প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের টঙ্গীতে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে টঙ্গী টিএন্ডটি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে চরম পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে বৃক্ষায়নের হার বাড়ানো জরুরি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এটি কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়, বরং পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
গাছের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন বলেন, ‘একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ যে পরিমাণ অক্সিজেন আমাদের সরবরাহ করে, তা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা অসম্ভব ও ব্যয়বহুল। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো ও নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, সেটিকে বড় করে তোলার মানসিকতাও আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের কাজ নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তোমরা আজ থেকেই পরিবেশবান্ধব মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠো। তোমাদের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস প্রদান করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সদস্য ও টঙ্গী পূর্ব থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!