ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশি পুরস্কার প্রাপ্তির ঝুলি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। গত ১২ বছরে তিনি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। সর্বশেষ জুন মাসে সেশেলস সফরের সময় তাকে দেওয়া ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কারটি নিয়ে বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সেশেলসের এই সম্মাননা নিয়ে বিতর্কের কারণ ছিল পুরস্কারের প্রশংসাপত্রে বানান ভুল এবং এটি মোদির সফরের ঠিক আগে তৈরি করার অভিযোগ। যদিও সেশেলস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে 'খসড়া কপি' বলে দাবি করেছে, তবুও এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়েছে। একইভাবে এর আগে ইসরাইল ও স্লোভাক প্রজাতন্ত্রের পুরস্কার নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল যে, এগুলো সফরের আগ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ও সমর্থকদের দাবি, এই সম্মাননাগুলো বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও মর্যাদার প্রতীক। তারা মনে করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের বিশাল বাজার ও অর্থনৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব দিতেই প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মান প্রদান করছে। মোদি নিজেও প্রতিটি পুরস্কারকে ‘১৪০ কোটি জনগণের সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান হল এবং ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিতাশা কাউলের মতে, এসব পুরস্কারের কোনো বাস্তব কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সুবিধা ভারতের জাতীয় স্বার্থে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সমালোচকদের দাবি, এগুলো দেশের স্বার্থে ব্যবহারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরির কাজেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। সেশেলসের মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মর্যাদাকে বাড়ানোর চেয়ে বরং উল্টো হাসির খোরাক জোগাচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ বা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ‘গ্লোবাল গোলকিপার’ অ্যাওয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলো আগে ভারতের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখলেও, সাম্প্রতিক সময়ের তড়িঘড়ি করে দেওয়া পুরস্কারগুলো বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের মতো একটি উদীয়মান পরাশক্তির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই ধরনের ‘পুরস্কার রাজনীতি’ দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক স্বার্থকে ব্যাহত করতে পারে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!