মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি। বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর জোরালো বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় তিনটি দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে ইরানের উপকূলবর্তী এবং প্রণালির নিকটবর্তী ডজনখানেক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বন্দর নগরী আব্বাস, কিশ দ্বীপ এবং বন্দর ইমাম খোমেনিতে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বিশেষ বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠাসহ কুয়েত ও জর্ডান তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংঘাত তুঙ্গে ওঠে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, মার্কিন এই নতুন অবরোধের ফলে গত মাসে হওয়া শান্তি আলোচনার ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ চুক্তি ভেঙে পড়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারো জন্যই থাকবে না।’ তারা মার্কিন মিত্রদের সব রুট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দিমোনা শহর থেকে দেওয়া এক ভাষণে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে কেউ পার পেয়ে যাবে—সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। কোনো হামলা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনার টেবিলে না বসে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে।
সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, গত এক সপ্তাহে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে ১২ জন বেসামরিক ক্রু হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!