টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ধূপীপাড়া গ্রামের অটোরিকশা চালক রুবেল ধূপীর (৫০) জীবন ও জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তার ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, আর রুজির একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটিও বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে তিনি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রুবেল ধূপী জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে দৈনিক ৩০০ টাকা জমার শর্তে ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন। বন্যায় তার ঘরটিতে হাঁটুসমান পানি উঠেছিল, যার ফলে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং মেঝেও দেবে গেছে। শুধু তাই নয়, বন্যায় রিকশার মোটর ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাত সদস্যের সংসারে আয়ের কোনো পথ না থাকায় রুবেলের চার মেয়ে ও এক ছেলের শিক্ষা জীবন থমকে গেছে। সংসার চালাতে ১০ বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে নরসুন্দরের কাজে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বর্তমানে ঘরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে, বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছালেও ধূপীপাড়ার দুর্গতরা এখনো বঞ্চিত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পূর্ণিমা ধূপী বলেন, “টিভি-সংবাদপত্রে ত্রাণ পাওয়ার কথা শুনলেও আমাদের ভাঙা ঘরের খবর কেউ নেয়নি।” এছাড়া রাস্তার পাশের দুর্গম অবস্থানের কারণে ত্রাণবাহী গাড়িগুলো তাদের গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কর্মসংস্থান হারিয়ে যাওয়া এবং বসতঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় রুবেল ও তার স্বজনরা এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।