ফাইল প্রসেসিংয়ে সময় কমিয়ে আনা এবং অভিবাসীদের অনিশ্চয়তা দূর করার লক্ষ্যে বাবা-মা ও দাদা-দাদিকে কানাডায় নেওয়ার স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামে নতুন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির অভিবাসন বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামের (পিজিপি) আওতায় নতুন করে আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আইআরসিসি বলেছে, নতুন কোনও আবেদন গ্রহণ করা না হলেও আগের জমা পড়া সব ফাইলের প্রক্রিয়াকরণ চালু থাকবে। দেশটির ২০২৬-২০২৮ অভিবাসন স্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই পিজিপি প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে বসবাসের (পিআর) অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আইআরসিসি বলেছে, ‘‘নবাগত এবং কানাডিয়ান; উভয় পক্ষের জন্যই কার্যকর, সুপরিকল্পিত ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কানাডা। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইআরসিসি প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামের (পিজিপি) আওতায় নতুন আবেদন নেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করছে।’’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘আমরা ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া চালু রাখব। একই সঙ্গে আমাদের ২০২৬-২০২৮ অভিবাসন স্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬ সালে পিজিপি প্রোগ্রামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় কমে আসবে এবং পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও সহজ হবে।’’
আইআরসিসি বলেছে, পারিবারিক পুনর্মিলন এখনও কানাডার অভিবাসন কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বহাল রয়েছে। মা-বাবা এবং দাদা-দাদি, নানা-নানিরা চাইলে ‘সুপার ভিসার’ মাধ্যমে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কানাডা যেতে পারবেন। এই ভিসার আওতায় প্রতিবার টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত অবস্থান করা যায় এবং ১০ বছরের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করা সম্ভব।
সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে আয় এবং স্বাস্থ্য বীমার শর্ত শিথিল করে সুপার ভিসাকে আরও সহজ করা হয়েছে। এই বিষয়ে দেশটির সরকার বলেছে, ‘‘মা-বাবা এবং দাদা-দাদি, নানা-নানিরা সুপার ভিসার মাধ্যমে কানাডায় তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছে আসা-যাওয়া অব্যাহত রাখতে পারবেন। যা তাদের প্রতিবারে টানা ৫ বছর থাকার সুযোগ এবং ১০ বছর পর্যন্ত মাল্টিপল এন্ট্রির সুবিধা প্রদান করে।’’
কানাডার অভিবাসন পরিকল্পনার নির্ধারিত আসনের তুলনায় পিজিপি প্রোগ্রামের প্রতি আগ্রহ বা আবেদন করার হার অনেক বেশি। এই বিপুল চাহিদা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনও স্পনসর করার আগ্রহপত্র ফর্ম গ্রহণ করা হবে না কিংবা সম্ভাব্য স্পনসরদের আবেদনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবে না বলে জানিয়েছে আইআরসিসি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন আবেদন গ্রহণ স্থগিত করার মাধ্যমে কানাডা ফাইল প্রসেসিংয়ের সময় কমিয়ে আনতে চায়। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর জন্যও অনিশ্চয়তা দূর করতে চায় আইআরসিসি; যাতে এই অভিবাসন ব্যবস্থা নবাগত ও কানাডার স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সঠিকভাবে পরিচালিত হয় ও টেকসই থাকে।
সম্প্রতি কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিকদের সতর্ক করে একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে কোনো স্বামী বা সঙ্গীকে অভিবাসনের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে বিয়ে সংক্রান্ত জালিয়াতির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই সতর্কবার্তা তুলে ধরে এমন কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছে আইআরসিসি; যেখানে জালিয়াতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। কানাডার কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দারা অভিবাসনের জন্য যাকে স্পনসর করার পরিকল্পনা করছেন, তার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিয়ে সংক্রান্ত জালিয়াতি একটি ভয়াবহ এবং ক্রমবর্ধমান সমস্যা; যা প্রতারিত ব্যক্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আইআরসিসির পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‘কাউকে বিয়ে করার এবং তাকে কানাডায় নিয়ে আসার জন্য স্পনসর করার আগে গভীরভাবে চিন্তা করুন। বিশেষ করে যদি আপনাদের মাত্র পরিচয় হয়ে থাকে এবং শিগগিরই বিয়ে করতে চায়, অতীতে তাদের একাধিকবার বিয়ে বা লিভ-ইন রিলেশনশিপের ইতিহাস থাকে কিংবা তারা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত অতীত নিয়ে খুব বেশি তথ্য শেয়ার না করে, তাহলে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।’’
সূত্র: গ্লোবাল নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!