কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেছেন, খুনি যত বড় শক্তিশালীই হোক, যত মাটির গভীরেই থাকুক, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। নেপথ্যে যারা থাকুক, নির্দেশদাতা যারাই থাকুক, তাদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করা হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড ময়দানে অনুষ্ঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের জানাজায় উপস্থিত হয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী, সমর্থক ও মুসল্লিদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, গতকাল মন্ত্রী পরিষদ সভার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। তিনি বিস্তারিত জেনে স্বরাষ্টমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। আজ ট্রলারে যখন এখানে আসছিলাম, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিঠামইনবাসীকে এই মেসেজটা দিতে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাহাঙ্গীর ভাই আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন। আমরা আজ জাতীয়তাবাদী পরিবারের একজন প্রকৃত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা ধৈর্য্য ধরি। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুরুত্ব সহকারে কাজ করছেন।
জানাজায় প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল মিঞা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ, সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাদ এশা কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগী হাদিসের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!