চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিনবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বই পেরোতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেই টুর্নামেন্টের বাইরে থাকা দলটি পরবর্তী আসর নিয়ে ভাবনা শুরু করে। যারই অংশ হিসেবে এসেছে সম্ভাব্য কোচ হিসেবে স্প্যানিশ কিংবদন্তি পেপ গার্দিওলার নাম। ইতোমধ্যে তার সঙ্গে ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোতে না পারার ব্যর্থতায় গত এপ্রিলে কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি জেনারো গাত্তুসো। তার জায়গায় ইতালির এই বিপর্যস্ত সময়ে কে দায়িত্ব নেবেন তা ছিল আলোচনায়। এদিকে, ক্লাব ফুটবলের সর্বশেষ মৌসুম শেষেই ম্যানচেস্টার সিটি কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন গার্দিওলা। এর আগে তিনি কখনও জাতীয় দলের কোচিং করাননি।
ইংল্যান্ডে ১০ বছরের সফল অধ্যায়ে ৬টি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, ৩টি এফএ কাপ, ৫টি লিগ কাপ এবং একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন গার্দিওলা। তার সঙ্গে ইতালির কোচ হওয়ার আলোচনা প্রসঙ্গে দেশটির ডিজিটাল ক্রীড়া মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রোনাচে দি স্পোলিয়াতোইও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেডারেশন সভাপতি মালাগো নিশ্চিত করেছেন, স্প্যানিশ কোচের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং তার বেতনের ক্ষেত্রে ‘ব্যতিক্রম’ কিছু হতে পারে।
বেতন-সংক্রান্ত ব্যতিক্রমী বিষয়টি ঠিক কী– তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি মালাগো। মূলত ক্লাবের তুলনায় কোনো দেশের ফেডারেশনগুলো সীমিত আর্থিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয় এবং বড় ক্লাবগুলোর চেয়ে তারা কোচদের সাধারণ মানের পারিশ্রমিক প্রদান করে। তবে গার্দিওলা ফেডারেশনের স্বাভাবিক বেতন–সীমার চেয়ে অনেক বেশি অঙ্কের পারিশ্রমিক পান। সেক্ষেত্রে বিশ্বমানের কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে ফেডারেশন তাদের প্রথাগত আর্থিক পরিকল্পনার বাইরে গিয়েও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে সম্মত হয়।
ইতালিয়ান ফুটবলের প্রধান মালাগো বলেন, ‘(আর্থিক) ব্যতিক্রম করা হয়েছে, যা এই মুহূর্তে প্রভাবশালী নাম পেপ গার্দিওলার ক্ষেত্রে হতে পারে। ব্যতিক্রমগুলো সুস্পষ্ট কারণে করা হচ্ছে, যা ব্যাখ্যা করার জন্য আমি এখানে আসিনি, আবার এই বিষয়টি যে সম্পন্ন হবে তাও নিশ্চিত নয়।’
গার্দিওলার পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির আরেক সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনি (২০২০ ইউরোতে ইতালির কোচ ছিলেন), দেশটির সাবেক কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলো–ও (বর্তমানে দুবাই ইউনাইটেডের কোচ) ইতালির কোচ হওয়ার বিবেচনায় আছেন। এই তিনজনই কেবল কোচ হওয়ার প্রার্থী কি না এমন প্রশ্নে ইতালিয়ান ফুটবল প্রধানের ভাষ্য, ‘অবশ্যই না। আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রোফাইল নিয়ে ভাবছি, এই নামগুলোও সেই ক্যাটাগরিতে পড়েছে।’
এখন পর্যন্ত কেবল দুজন বিদেশি কোচ ইতালি ফুটবল দলকে পরিচালনা করেছেন। হাঙ্গেরির লাজোস সিজেইজলার ১৯৫০ সালে টেকনিক্যাল কমিটি এবং একই দশমে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি হেলেনিও হেরেরা ইতালির ফেরুচিও ভালকারেগির সঙ্গে যৌথভাবে ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন। গার্দিওলা এখন পর্যন্ত ইতালি কিংবা কোনো জাতীয় দলের কোচিং করাননি। তবে ক্লাব ফুটবলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার থাকা এই কিংবদন্তি ২০০১-০৩ পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাবে খেলার সুবাদে তাদের ভাষা জানেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!