প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির টানে টাঙ্গাইলের মধুপুরে দুই দিনের সফরে এসেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল। সফরে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বন ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনধারা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী জানুয়ারিতে বৃহত্তর পরিসরে লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
গত শুক্রবার মধুপুরের কাকরাইদে গোজাখালের তীরে ব্যুরো বাংলাদেশ পরিচালিত একটি রিসোর্টে ফোরামের সদস্যরা অবস্থান নেন। সেখানে বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ফোরামের সদস্যরা জানান, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের সফল সাংস্কৃতিক উৎসবের ধারাবাহিকতায় আগামী জানুয়ারিতে আরও বড় পরিসরে লোকজ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ ঐতিহ্য, গান, কবিতা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা পর্বে ময়মনসিংহ অঞ্চলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা, কবি জসীমউদ্দীনের ‘রূপাই’, ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার, পাঁচবাগের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের অবদান এবং মধুপুরের বন ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামের নানা দিক উঠে আসে। এ সময় মধুপুরে একটি নৃ-তাত্ত্বিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন আরণ্যক নাট্য সংঘের শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা আমিনুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসাইন এবং দীপিকা সিমসাং। এছাড়া আবৃত্তি পরিবেশন করেন কবি লিলি হক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মসিহউদ্দিন শাকের।
ফোরামের সমাজকল্যাণবিষয়ক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম শেলির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ফোরামের উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা মসিহউদ্দিন শাকের, লেখক জেবুন নেসা, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেক এবং সাংবাদিক এস.এম শহীদ।
ফোরামের সদস্যদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত এই লোকজ উৎসব বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।