দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, সরকারি নির্দেশ অমান্য ও অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে সাবেক ডিআইজি হারুন অর রশীদসহ ছয়জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একজনকে দেওয়া হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া, সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এসব আদেশ জারি করা হয়।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হলেন সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান। এছাড়া সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর কাজে না ফেরায় তদন্ত শেষে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে যোগদানের পর তিন সপ্তাহের বিশ্রামের কথা বলে প্রস্থান নিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি। রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান নৌ পুলিশে থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অস্পষ্ট প্রতিবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বরখাস্ত হন। অন্যদিকে নৌ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর বহিঃবাংলাদেশ ছুটিতে গিয়ে অতিরিক্ত ছুটির আবেদন নাকচ হওয়া সত্ত্বেও আর কাজে যোগ দেননি।
এছাড়া বিদেশে প্রেষণ ও শিক্ষাছুটিতে গিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন দুই কর্মকর্তা। সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন ২০১৮ সালে ৪২ দিনের ছুটিতে কানাডা যান। পরে ছুটির আবেদন নাকচ হলেও তিনি কর্মস্থলে না ফেরায় তাঁকে ওই বছরের মার্চ থেকে বরখাস্ত করা হয়। অপর সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকার ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যে পিএইচডি করতে প্রেষণে যান। পরবর্তীতে একাধিকবার ছুটি বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তাঁকে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
অন্যদিকে সিআইডির দিনাজপুর জেলায় কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে বাহিনীর ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া এই শাস্তিমূলক আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।