কালীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের তান্ডবদা

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ গ্রামে চিহ্নিত সন্ত্রাসী বহু মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ীদের লুটপাট ও শসস্ত্র হামলায় আহত হয়ে রহমত উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

জানা যায়- বড়কাউ গ্রামের মোঃ শুকুর মিয়া (৬৫)’র ছেলে রহমত উল্লাহর সাথে বড়কাউ গ্রামের সেলিম, পিতা মৃত- ফজলু মিয়া, দবির, পিতা মৃত- সাহাজ উদ্দিন, হায়দার, পিতা- সিরাজ উদ্দিন সেরাজুল, অপু, পিতা- মাহাম্মদ আলী, সুলতান, পিতা- আঃ মান্নান মন্না, মুঞ্জুর মিয়া, পিতা- মতিউর রহমান মতি, মোঃ ইমান আলী ইমান, পিতা- নুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর, পিতা- সামসুল, সুমন, পিতা- ইমান আলী ইমান, জাহিদুল, পিতা- মজিবর রহমান, সর্ব সাং- বড়কাউ, থানা- কালীগঞ্জ, জেলা- গাজীপুরসহ অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জন আসামীর সাথে নানা বিষয়াদী নিয়ে শত্রুতা চলে আসছিলো। ঠিক সে কারণে গত ১৩/০৪/২০২৪ ইং তারিখ রাত অনুমান ১০:৩০ ঘটিকার সময় উপরোক্ত আসামীগন পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একাধিক দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রাম দা, লোহার রড ইত্যাদি অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রহমত উল্লাহর দোকানের সামনে আসে এবং রহমত উল্লাকে ডাকাডাকি করিতে থাকে। রহমত উল্লাহ তাদের ডাক শুনে কন্ঠ বুঝতে না পেরে দোকানের সাটার খোলা মাত্রই কিছু বুঝিয়া উঠার আগেই কালো মাক্স পরিহিত আসামীগনসহ অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জন আসামী সশস্ত্র অবস্থায় দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়ে। আসামীরা রহমত উল্লাহর গলায় ধরালো রাম দা ধরে ক্যাশ বক্সে যা আছে তা দিয়ে দিতে বলে। দোকানদার রহমত উল্লাহ তা দিতে অস্বীকার করা মাত্রই আসামীরা তার গলায় চাপাতি ধরে উপরের ক্যাশ বক্স থেকে বেনসন, স্টার সিগেরেট ও অন্যান্য মালামাল বিক্রয়ের নগদ ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা ছিনিয়ে নেয়। তারা রহমতের পেটে ধারালো ছুরি ধরে ক্যাশ বক্সের মাঝের ড্রয়ার থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর বিল পরিশোধের জন্য রক্ষিত ১,১০,০০০/- (এক লক্ষ দশ) টাকা ছিনিয়ে নেয়। আসামীরা রহমতের ঘাড়ে রাম দা ধরে ক্যাশ বক্সের নিচের ড্রয়ারে রক্ষিত ৯০,০০০/- (নব্বই হাজার) টাকাও ছিনতাই করে। এই সময় দোকান মালিক রহমত উল্লাহ যুক্তি সঙ্গত প্রতিবাদ করে ডাক চিৎকার শুরু করলে আসামীরা ধারাল রাম দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় কোপ মারলে মাথার সামনের দিকের বাম পাশে লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আসামীরা তাদের হাতে থাকা চাপাতির ঘাড়ালী দিয়ে পুনরায় বারি দিলে দোকানদারের মাথার বাম পাশের মাঝামাঝি লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। দোকানদার বাঁচাও বাঁচাও বলে চিকিৎকার করতে থাকলে আসামীরার তার গলায় চাপ দিয়ে ধরে। ফলে সে মৃত্যুর বিভিষিকা দেখতে পায়। আসামীরা লোহার রড দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে যথাক্রমে বাম এবং ডান বাহুতে এলোপাথারি বাইরাইয়া হাড় ভাঙ্গা গুরুতর জখম করে। ঘটনা টের পেয়ে আশপাশ থেকে লোকজন আগাইয়া আসতে থাকলে আসামীরা ধারালো রামদা ও চাপাতি তার গলায় ধরে দোকানে রক্ষিত মূল্যবান মালামালের মধ্যে ২০ (বিশ) বস্তা চাউল, ০৫ (পাঁচ) বস্তা মসুরী ডাল, ২০ (বিশ) কার্টুন বেনসন, ২৫ (পচিশ) কার্টুন গোল্ডলিফ, স্টার ৩০ (ত্রিশ) কার্টুন সিগারেটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যার অনুমানিক বাজার মূল্য ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা।

দোকান মালিক রহমতের গগনবিদারী কান্নায় আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে হাজির হলে আসামীগন তাহাদের ব্যবহৃত অস্ত্র উচিয়ে নানাবিধ ভয়ভীতি হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে চলে যায়। এই সময় জনমনে আতংঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রহমত উল্লাহর পিতা রহমতকে উদ্ধার করে।

মূমূর্ষ অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেন। সেখানে প্রার্থমিক চিকিৎসা শেষে সিট স্বল্পতার কারণে তাকে আইচি হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা ভর্তি করে। রহমত উল্লাহ সেখানে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত রহমত উল্লাহর পিতা এ প্রতিবেদককে জানান- আসামীরা দলবদ্ধ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামী। তারা দেশের প্রচলিত আইন কানুনের কোন ধারধারে না। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা আলোচিত পুলিশ হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাসী ইত্যাদি প্রায় এক ডর্জন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী। মামলাগুলোর নাম্বার যথাক্রমে ১। কালীগঞ্জ ১০ (৫)১৩ পুলিশ হত্যা মামলা, ২। কালীগঞ্জ ২৬ (১০) ২০, ৩। কালীগঞ্জ ১২ (৭) ২১, ৪। কালীগঞ্জ ৫ (৯) ২১, ৫। কালীগঞ্জ ১৮(১২)২১, ৬। কালীগঞ্জ ১৪ (১২)২১, ৭। কালীগঞ্জ ৬(১২)১০, ৮। কালীগঞ্জ ৩ (৩) ২২, ৯। কালীগঞ্জ ৪(৩)২২, ১০। কালীগঞ্জ ৯(৪)২০, বর্তমানে উক্ত মামলাগুলো বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button