উত্তরা পশ্চিম থানার জন্য জমি বরাদ্দের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মো: ইব্রাহিম, ঢাকা: উত্তরা পশ্চিম থানাকে স্থায়ী ভাবে জমি বরাদ্দের দাবিতে উত্তরার সচেতন নাগরিক সমাজ মানববন্ধন করেছে।

আজ (২৯শে জানুয়ারী) বুধবার সকাল ১১ টায় উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ এভিনিউ জমজম টাওয়ারের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারী এলাকাবাসী “থানার জমি বরাদ্দ-দিতে হবে দিতে হবে” আমাদের দাবি আমাদের দাবি- মানতে হবে মানতে হবে, রাজউকের কালো হাত ভেঁঙ্গে দাও গুরিয়ে দাও, থানার জমি বরাদ্দ-দিতে হবে দিতে হবে” এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সোনারগাঁ  জনপথ এভিনিউ।

তারা আরো বলেন, এখানকার আবাসিক বিল্ডিং থেকে থানা সরিয়ে নিয়ে ১৩ নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ এভিনিউ রোডের রাজউকের ৩৩ ও ৩৫ নং খালি প্লট উত্তরা পশ্চিম থানার বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। মডেল থানা হিসেবে পরিচিত উত্তরা পশ্চিম থানা এটি উত্তরা উপশহরের ১১ নং সেক্টরের ১৮ নং রোডে অবস্থিত।

উত্তরা পূর্ব থানার (পূর্ববর্তী নাম উত্তরা থানা) দায়িত্বভার কমাতে এটি ২০১২ সালে এ থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই থানার আয়তন ৮ বর্গকিলোমিটার। থানাটি আব্দুল্লাহপুর, বাউনিয়া, কামারপাড়া, বাটুলিয়া, রসদিয়া এবং উত্তরার ৩, ৫, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নং সেক্টর নিয়ে গঠিত। নতুন থানা হওয়ার পর স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য জমি না থাকায় সরকার একটি ভবন ভাড়া নেয়। ভবনটি আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়া নতুন থানা ভবনটি অপর্যাপ্ত হওয়ায় এর কার্যক্রমে নানাবিধ অসুবিধা সৃষ্টি চলমান।

এছাড়াও থানা ভবনের আশেপাশের শাখা সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই জন্য থানা দপ্তরকে সোনারগাঁও জনপথের ৩০ কাঠা জমিতে নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখানে স্থানান্তর করার দাবিতে গত ২০২২ সালে উত্তরা কল্যাণ সমিতি কয়েক দফা আন্দোলন করেন। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য তাদের দাবির স্বপক্ষে সুপারিশ করে ১৯ অক্টোবর ২০২২ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞাকে একটা ডিও লেটার প্রেরণ করেন।

জানা যায়, মানববন্ধনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রাজউক উত্তরা জোনের পরিচালক আসার কথা রয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানা ভবনের নামে স্থায়ী ভাবে জমি বরাদ্দের বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, জায়গা কম হওয়ায় আমরা জনগণকে তাদের কাংখিত সেবা দিতে পারছিনা। অফিসারদের বসায় পর্যাপ্ত জায়গায় নেই,গাড়ী রাখার জায়গা নেই,গাড়ি পার্কিং এলাকায় চেয়ার টেবিল বসিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এখানে স্বাস্থ্য সম্মত বার্থরুম নেই। আসামি রাখার হাজতখানার বেহাল দশা।এখানে অস্রাগার ও নিরাপদ নয়, আসামিদের নিয়ে সারাক্ষণ টেনশনে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, সেক্টরবাসীকে পর্যাপ্ত সেবা দিতে হলে থানার পরিবেশ ঠিক করা দরকার। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই যৌক্তিক দাবির সাথে আমিও একমত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button